রবিবার, ১৭ মে, ২০১৫

এসইও জন্য ব্লগিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং? কোনদিকে যাবেন?

এসইও জন্য ব্লগিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং? কোনদিকে যাবেন?
 সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম ব্লগিং ও ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আপনাদের সাথে কিছু বিষয় শেয়ার করবো। কোনটি আসলে বেশি ভালো, কোন পথে আয়ের পরিমান বেশি এসব নিয়েই সাজিয়েছি আজকের আমার টিউন। তো শুরু করা যাক।

ব্লগিং ও ফ্রিল্যান্সিং কি?


আমার অনেকেই জানি এদের সংজ্ঞা । তারপরও আমি আমার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। ব্লগিং বলতে বুঝায় এমন একটি কাজ যার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে লেখা লেখি করা। অর্থাৎ আপনি যদি এখন ব্লগার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার কাজ হবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা বা লেখালেখি করা। সেটা হতে পারে যে কোন বিষয়। আর এসব বিষয় নিয়ে যারা লেখালেখি করে তারাই ব্লগার (যদি ও আজকের প্রেক্ষাপটে ব্লগার মানেই নাস্তিক  :D :P) । তার মানে দাঁড়াচ্ছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একজন ব্লগার লেখালেখির কাজই হল ব্লগিং

ফ্রিল্যান্সিং মানে এক কথায় অনের হয়ে স্বাধীন ভাবে কাজ করা। যারা কোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষ এবং সেই কাজের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন আউটসোরসিং মার্কেট প্লেস এ সেই বিষয়ের উপর কাজ করে থাকে সেটাই ফ্রিল্যান্সিং। অর্থাৎ তাঁরা মুক্তপেশাজীবী । তাঁরা চলে সম্পূর্ণ নিয়ের ইচ্ছায়। আর যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তাদেরকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার।

এসইও তে ব্লগিং ও ফ্রিল্যান্সিং এর গুরুত্ব।
এতক্ষণে আমরা বুঝতে পরেছি যে ব্লগিং ও ফ্রিল্যান্সিং কি? এখন আসি আমার মূল বিষয়ে। “সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন” এই বিষয়ের উপর কোনটির বেশি গুরুত্ব রয়েছে।
এখনকার সময়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলতে প্রচুর পরিমাণে কাজ রয়েছে এসইও এর। তাই এখন ভালো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনকারী বেশ কাজ পেয়ে থাকেন সেখান থেকে। তবে তুলনা মূলক ভাবে তা আগের চেয়ে কম। (কারণ হিসাবে আসতে পারে গুগল পাণ্ডা এবং পেঙ্গুইন আপডেট। যার কারনে এখন প্রতিটি ক্লায়েন্ট চায় ভালোমানের সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজারদের। এখন আর সেই দিন নেই যে লাখ লাখ লিংক বিল্ডিং করে দিলেন আর ২ দিনেই র‍্যাংক আপ হয়ে গেলো। এখন কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ান্টিটি সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আর সেই কারণে যারা শুধুমাত্র লিংক বিল্ডিং এর কাজ করতেন তাঁরা অনেকেই ঝড়ে পড়েছেন। আর যারা একটু এডভান্স লেভেল এ রয়েছেন তাঁরা বেশ ভালো পজিশন এ রয়েছেন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফরম গুলতে। তাছারা এখন লিংক বিল্ডিং এর কাজের চেয়ে র‍্যাংক আপ এর কাজের পরিমাণ বেশি। তাই বলা চলে যে শুধুমাত্র যারা লিংক বিল্ডিং জানেন তাঁদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম অনেকাংশে দুর্বল। আর যারা মোটামুটি অন পেজ এবং অফ পেজ সাথে একটু ওয়েবসাইট ডিজাইন ভালো যানেন তাঁদের জন্য রয়েছে বিস্তর সম্ভাবনা।

অন্যদিকে একজন ব্লগার কিন্তু সব বিষয়েই পারদর্শী হয়ে থাকেন। যেমন তিনি পারেন লিখতে, পারেন তিনি ওয়েবসাইট বানাতে, সুন্দর করে সব গোছাতে। আর তার সাথে যদি তিনি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন জানেন তাহলে তো কোন কথাই নেই। যে কোন ফরম্যাট এ তিনি কাজ করতে পারেন। যেমন একজন ব্লগার কিন্তু অ্যাফিলিয়েট করতে পারেন, গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে আয় করতে পারেন, বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য কাজ করতে পারেন, এমন কি তিনি ফ্রিল্যান্সিং ও করতে পারেন!
তার মানে কি দাড়ায়??
“সকল ব্লগারই ফ্রিল্যান্সার, কিন্তু সকল ফ্রিল্যান্সারা ব্লগার নয়”
তার মানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এ ব্লগিং এর গুরুত্ব ফ্রিল্যান্সিং এর চেয়ে অনেক বেশি। এসইও এর অনেক পার্ট রয়েছে, তাই শুধুমাত্র একটি বিষয় জানলে হবে না, জানতে হবে সম্পূর্ণ বিষয়।

অনলাইন ক্যারিয়ার ও ব্লগিং –ফ্রিল্যান্সিং

এবার আসি ক্যারিয়ার হিসাবে ব্লগিং কেমন আর ফ্রিল্যান্সিং কেমন। প্রথমে আসি ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার

ফ্রিল্যান্সিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। এখানে দিন দিন যেমন ওয়ার্কার এর সংখ্যা বাড়ছে, ঠিক তেমন ভাবে কাজের পরিমাণ ও বাড়ছে। ফলে এটা ভাবার অবকাশ নেই যে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন জানলেও আপনি ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন না। আপনি অবশ্যই পারবেন। এবং আমাদের দেশের অনেকেই আছেন যারা ওডেক্স এ এখন ৫,০০০-১০,০০০ ঘন্টা কাজ করেছেন শুধুমাত্র এসইও এর উপর। এবং প্রতিনয়ত নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সারা আসছেন এই কাজে নিজের ক্যারিয়ার হিসাবে গড়ে নিতে। মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখার পর ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করার মাধ্যমে নিজেদের আরো শক্ত করে গড়ে তোলায় ফ্রিল্যান্সিং এর কোন জুড়ি নেই। অজানা অনেক কিছুই আপনি জানতে পারবেন ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে।
নিজে কাজ করে বা একটি শক্ত টিম গঠন করে আপনি ও পারেন আপনার নিজের ক্যারিয়ার গড়তে এই ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে। আজ আমাদের পাশের দেশে ইন্ডিয়াতে কিন্তু একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে আউটসোর্সিং। চাইলেই আমরা সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে হয়ে উঠতে পারি উদ্যোগতা।

ব্লগিং ক্যারিয়ারঃ


ব্লগিং হল ফ্রিল্যান্সিং এর চেয়েও স্বাধীন একটি মাধ্যম নিজের ক্যারিয়ার গড়ার। আসলে এই প্ল্যাটফরম দিয়ে আপনি একটি সুদূর প্রসারী অনলাইন ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। যেহেতু একজন ব্লগার পারেন লেখালিখি করতে তাই তিনি নিজে ওয়েবসাইট বানিয়ে তা দিয়েই শুরু করতে পারেন আয়। যেমন তিনি একটি বড় রিভিউ সাইট করলেন , যেখানে তিনি পারেন বিভিন্ন পণ্য নিয়ে লিখতে এবং সাথে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে তা নিয়ে আসতে পারেন সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষে। ফলে সেই ব্লগ বা ওয়েবসাইট দিয়ে তিনি শুরু করতে পারেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, যেখানে তার রেফারালে যদি কেউ কোন পণ্য নিয়ে থাকেন তাহলে তিনি পান একটি কমিশন , এভাবে তিনি ভালো একটি আয়ের বা ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন।
অন্যদিকে তিনি ঐ একই সাইট এ গুগল এডসেন্স দিয়েও আয় করতে পারেন, যত বেশি ভিজিটর আসবে তার ওয়েবসাইট এ ততো বেশি আয় এর সম্ভবনা বেড়ে যাবে। এভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে একজন ব্লগার আয় করতে পারেন, যা একজন ফ্রিল্যান্সার এর পক্ষে সম্ভব হয় না। আর এই কারনে ফ্রিল্যান্সিং এর চেয়ে ব্লগিং এ ক্যারিয়ার যেমন মজবুত তেমন বেশি লাভবান।

কেন আমি ব্লগিং করি, ফ্রিল্যান্সিং নয়?


অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে ভাই আপানার ওডেক্স এ আওয়ার কত? ভাই আপনি কি এসইও কাজ করেন ফ্রিল্যান্সার ডট কমে ? আমি বলি না আমি কোন এসইও এর কাজ মার্কেটপ্লেস গুলতে করি না। অনেকেই অবাক হন আমার কথা শুনে, কারণ এখন ফ্রিল্যান্সিং মানেই ক্রেজ, আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন জেনে যারা ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন তাঁরা যে কি কি সুযোগ গুলো হাতছাড়া করেন তা এখন আমি আপনদের সামনে তুলে ধরবো।
ধরুন আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার। ওডেক্স এ একটি কাজ পেলেন ব্যাকলিংক বিল্ডিং এর। রেট ১০০ ডলার। আচ্ছা, যে সাইটের জন্য আপনি লিংক বিল্ডিং করছেন সেটি একটা হেলথ বিষয়ক ওয়েবসাইট।

আপনাকে বায়ার বলল যে আমাকে ১০০০ ব্যাকলিংক করে দিতে হবে, তাহলে এর জন্য নিশ্চই আপনার ৭-১৫ দিন সময় লাগতে পারে। তা ছাড়া যে নীতিমালা আপনাকে বায়ার দিবে তা দিয়ে কাজটি হয়তো করতেও আপানার বেশ বেগ পোহাতে হবে, এর পর বায়ের সাথে যোগাযোগ, পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা ইত্যাদিতো রয়েছেই। এত কিছু করার পরেও আপনি কিন্তু কাজটি শেষ করে দিলে জাস্ট একবারই ১০০ ডলার পেলেন। কিন্তু বায়ার আপনাকে দিয়ে অনেক বেশি ডলার আয় করে নিলো।
কিভাবে? তাহলে শুনুন । বায়ার যে সাইট আপনাকে দিয়ে রেংকিং করিয়ে নিল সেই সাইটে সে যদি প্রতিমাসে ৩০০০০ ভিজিটর আসে এবং সেই সাইট এ যদি সে অ্যাফিলিয়েট করে তাহলে সেখান থেকে যদি মাত্র ১০০ জন ভিজিটর ও যদি তার প্রোডাক্ট কিনে থাকে তাহলে তার আয় কত হবে জানেন? ধরলাম প্রোডাক্ট প্রতি তার কমিশন ২৫ ডলার, অর্থাৎ ১০০X২৫= ২৫০০ ডলার!!! কিন্তু সে আপনাকে দিয়ে রেংক আপ করানর জন্য খরচ করলো কত? মাত্র ১০০ ডলার, হয়তো অন্য কাউকে দিয়ে সাইট ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং ইত্যাদিতে তার খরচ সর্বচ্চো ৫০০ ডলার। কিন্তু রেংক আপ এর পর থেকে সে প্রতিমাসে আয় করবে ২৫০০ ডলার, তাহলে সে যদি নুনতম ৬ মাস তার ওয়েবসাইট চালায় তাহলে তার টোটাল আয় হয় ১৫,০০০ ডলার !!
তাহলে একবার ভাবুন সে তার ৫০০ ডলারকে কিভাবে ১৫ হাজার ডলার এ রূপান্তর করেছে। শুধু এফিলিয়েট মার্কেটিং নয়, সে যদি তার সাইট এ গুগল এডসেন্স ও বসায় তাহলে তার ঐ ৩০,০০০ ভিজিটর দিয়ে তার আয় হতে পারে মাসে ৫০০-১৫০০ ডলার পর্যন্ত। কিন্তু এই সব আপনি মিস করবেন কারণ?? আপনি শুধুমাত্র একজন ফ্রিল্যান্সার।
আজ আপনি যদি ব্লগিং করতেন তাহলে কি হতো? আপনার র্যাংলক আপ করার জন্য অন্য কাউকে হায়ার করা লাগত না, আপনি নিজেই আর্টিকেল লিখতে পারতেন, না পারলে ও অন্যকে দিয়ে করিয়ে নিতে, নিজে সাইট রেডি করতে পারতেন, এবং এর পিছনে আপনি যদি ২-৩ মাস পরিশ্রম করতে তাহলে আপনি ঠিক ঐ বায়ার যা ইনকাম করছে আপনি তাই করতে পারতেন। কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সার কখনই একটি প্রোজেক্ট এর মাধ্যমে প্রতিমাসে মাসে এভাবে ইনকাম করতে পারতেন না।
আর এই কারনেই আমি নিজে মনে করি ফ্রিল্যান্সিং এ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর কাজ করা চরম বোকামি। আপনি যদি ওয়েবসাইট রেংক আপ করাতেই পারেন তাহলে কেন অন্যদের ওয়েবসাইট আপনি রেংক আপ করাবেন? কেন অন্যের জমিতে ফসল ফলিয়ে শুধুমাত্র পারিশ্রমিক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবেন? আপনি যদি নিজেই চাষ করতে পারেন তাহলে ফল, ফসল সবই আপনার এবং আমার পরিশ্রমের যে আসল সম্মান সেটা আপনি পাবেন।
তাই আমি মনে করি আপনি যদি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর এডভান্স লেভেল এর কাজ শিখতে পারেন তাহলে ব্লগিং বা অনলাইন মার্কেটিং কেই বেছে নিতে পারেন আপনার ক্যারিয়ার হিসাবে। আর এখন যারা বিগেনার পর্যায়ে রয়েছেন আপনারা ও প্রস্তুতি নিতে থাকেন এডভান্স কিছু শেখার জন্য। কারণ এডভান্স এসইও না জানলে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব নয়। তাই সময় নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে ফেলুন এবং কাজ শিখতে শুরু করুন। আপনার ক্যারিয়ার শুরু হোক ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে কিন্তু সব সময় টার্গেট রাখুন অনলাইন মার্কেটিং এ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে।এর জন্য প্রয়োজন সময়, প্রশিক্ষণ, শ্রম এবং ধৈর্য।

ক্যারিয়ার হিসেবে এসইও এর চাহিদা সম্পর্কে জানুন

ক্যারিয়ার হিসেবে এসইও এর চাহিদা সম্পর্কে জানুন

ক্যারিয়ার হিসেবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এস.ই.ও. হচ্ছে কোনো সাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের উপযুক্ত করা বা সার্চ ইঞ্জিন বান্ধব করে তোলা। শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর জন্যই গড়ে উঠছে এস.ই.ও. ক্যারিয়ার। যে কেউ নিজের ইচ্ছাশক্তি ও চেষ্টার মাধ্যমেই এস.ই.ও. জগতে প্রবেশ করতে পারেন। আপনি যদি একটি স্বাধীন পেশার সন্ধানী হন তাহলে এস.ই.ও.-ই হতে পারে আপনার প্রধান নির্বাচন। কিন্তু কেন অন্য কোনো ক্যারিয়ার বাদে এস.ই.ও. ক্যারিয়ারটিই বেছে নিবেন? হ্যা, আজ আপনাদের দেখাবো কেন আপনি এস.ই.ও.-কেই আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে নির্বাচিত করবেন। আসুন কারনগুলো দেখে নেওয়া যাক:

  • 1. বর্তমানে যে পরিমানে নতুন নতুন সাইট তৈরি হচ্ছে সেই কারনে নতুন সাইটগুলোকে ভিজিটরের সামনে উপস্থাপন করার জন্য এস.ই.ও. অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর এ কারনেই মার্কেটপ্লেসগুলোতে এস.ই.ও. কাজের পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আর সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে কাজ পাওয়ার সুযোগ।
  • 2. এস.ই.ও. সেক্টর নতুন কিছু নয়। ইতিমধ্যেই অসংখ্য লোক তাদের পেশা হিসেবে এস.ই.ও.-কে বেছে নিয়েছেন এবং এতে সফলতা লাভ করেছেন। নতুনরাও অনেক সফলভাবেই তাদের ক্যারিয়ার শুরু করতে পারছে।
  • 3. বর্তমানে এস.ই.ও. কাজের মূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব কাজের জন্য ওয়েব ডেভোলপার বা ডিজাইনারদের চেয়ে এস.ই.ও. এক্সপার্টরাই বেশি পারিশ্রমিক পায়। বর্তমানে মার্তেটপ্লেস গুলোতে এস.ই.ও. কাজের জন্য গড়ে প্রতি ঘন্টা ৫০ ডলার করে দেওয়া হয়। তাই এই কাজের মূল্যও কম নয়।
  • 4. আপনি যদি ইতিমধ্যে ওয়েব ডিজাইনিং শিখে থাকেন বা শেখার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে ওয়েব ডিজাইনিং এর পাশাপাশি আপনাকে এস.ই.ও.-ও শিখতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক নয় তবে ওয়েব ডিজাইনিং এর পাশাপাশি এস.ই.ও. তেও আপনার দক্ষতা থাকলে কাজের ক্ষেত্রে আপনি বিশাল সূবিধা ভোগ করতে পারবেন।
  • 5. এস.ই.ও শেখার মাধ্যমে আপনি আপনার নিজের সাইট তৈরি করে তাতে আপনার এস,ই.ও. স্কিল প্রয়োগ করে আপনার সাইটটিকে জনপ্রিয় করতে পারেন এবং সাইটটি হতে আয়ও করতে পারেন।
সব কাজের মতোই সার্চ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কাজের ক্ষেত্রেও কিছু অসুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যা হল:
  • 1. সার্চ ইন্জিনের অ্যালগরিদমগুলো প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হয় এবং তার সাথে তাল মিলিয়েই আপনাকে এস.ই.ও. করতে হবে। তাই যেকোনো সাইটেরই এ.ই.ও. নিয়মিত পরিবর্তিত রূপেই করতে হয়।
  • 2. এস.ই.ও. জগতে কাজের ক্ষেত্রে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন। যে কোনো সাইটকেই রাতারাতি সার্চ রেজাল্টের প্রথমে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এর জন্য অনেক কাজ করতে হয় এবং সময় দিতে হয়। কোনো সময় সাইটটি সার্চ রেজাল্টের পেছনে চলে গেলে হাল ছেড়ে না দিয়ে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করতে হবে।
  • 3. কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু অসাধু ডেভলপাররা সার্চ সার্চ ইঞ্জিন গুলোর দুর্বলতা গুলো ব্যবহার করে তাদের সাইটকে প্রথমে নিয়ে আসে এবং সে ক্ষেত্রে আপনার সাইট এর জন্য তেমন কিছুই করার থাকে না। কিন্তু সম্প্রতি এসব গর্হিত কাজকে সার্চ ইন্জিন গুলো সফলভাবেই পরিহার করছে।
এস.ই.ও. কাজের জন্য সুবিধার তুলনায় অসুবিধার পরিমান অতি নগন্য। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই এখানে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে তবেই আপনি ক্যারিয়ারে সফলতার মুখ দেখতে পারবেন। লেখাটি পড়ে আপনি এস.ই.ও.-কে আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহন করতে চান তাহলে এস.ই.ও. জগতে আপনাকে স্বাগতম।

একজন সফল ব্লগার হতে হলে কি কি বিষয় সম্পর্কে বিবেচনা করতে হয় ।

একজন সফল ব্লগার হতে হলে কি কি বিষয় সম্পর্কে বিবেচনা করতে হয় 


অনলাইনে কোটি কোটি ওয়েব সাইট আছে যেগুলো প্রোডাক্ট বিক্রি বা এফিলিয়েট মার্কেটিং বা অ্যাড থেকে বিভিন্ন ভাবে আয় করে চলেছে এবং এগুলো প্রতিটিই ভিজিটরের জন্য প্রতিযোগিতা করে চলেছে । আবার কেউ কেউ একই ভিজিটরের জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত । এত প্রতিযোগিতার ভিতর কাঙ্খিত ফলাফল কি করে পাওয়া যাবে ? এই প্রশ্নের জবাবে অনেক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাক্তি বলেছিল যে তাদের ওয়েব সাইট আছে । যদিও ওয়েবসাইট থাকা আর মার্কেটিং করে ওয়েবসাইট থেকে আয় করা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস । একটি ওয়েবসাইট হল কতকগুলো ডকুমেন্ট, ছবি এবং ইলেক্ট্রনিক্স ফাইলের সমাহার যা সাধারণের ব্যাবহারের জন্য । আর ইন্টারনেট মার্কেটিং করে ওয়েবসাইট এর পাঠক সংখ্যা বাড়াতে হয় । আর আমরা জানি যত বেশি ভিসিটর তত বেশি আয় । ব্লগ থেকে আয় করার পূর্বে মানে যখন আপনি ব্লজ্ঞিং শুরু করতে যাচ্ছেন তিনটি জিনিস মাথায় রেখে ব্লগিং শুরু করতে হয় .........

ক) ভিসিটরদের ব্লগের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানো ।
খ) তাদেরকে উৎসাহিত করা প্রোডাক্ট কিনতে, যদি আপনি ব্লগিং এর সাথে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান ।
ঘ) ভিসিটর যাতে ব্লগে আবার ফিরে আসে সেই ব্যাবস্থা করা ।
একটা ব্লগ থাকা খুবই ভালো কথা কিন্তু এটা অর্থহীন যদি কেউ সেই ব্লগ সম্পর্কে না জানে বা সেই ব্লগের কোন পাঠক না থাকে । এখানে আমি ব্লগিং এর শুরুটা কিভাবে করা যেতে পারে সেটা নিয়ে একটু বলবো । আসলে এত এত জিনিস নিয়ে চিন্তা করতে হয় যেটা লিখে ফেললে ১০০ পেজের একটা বই হয়ে যাবে । যা হোক আমরা মেইন জিনিসগুলো নিয়ে একটু ঘাঁটি । ব্লগ করার সময় তিনটে জিনিস মনে রাখতে হয় –
১। ব্লগের উদ্দেশ্য কি
২। টার্গেট মার্কেটের চাহিদা
৩। প্রোডাক্ট
সুতারাং উদ্দেশ্য, টার্গেট মার্কেট এবং প্রোডাক্ট – এই তিনটে জিনিসকে আবর্ত করেই ব্লগিং এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং । উপরের তিনটে জিনিসকে সঠিকভাবে নির্বাচন করতে পারলে ব্লগ থেকে আয়ের পরিমান বেড়ে যায় ।

একজন সফল ব্লগার হবেন কিভাবে?


উদ্দেশ্যঃ
ব্লগ বানানোর পূর্বে অবশ্যই ব্লগের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে ।নিজের কাছে নিজে ব্লগের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করুন “আমার ......ব্লগের উদ্দেশ্য কি?” নিজে ব্লগের Objective নির্ধারণ করে তারপর অন্যদের প্রশ্ন করুন । ফেসবুকে ও প্রশ্ন করুন । মাথা ঘামিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের দৃষ্টিকোণ দিয়ে ব্লগকে পর্যবেক্ষণ করুন । কোন শ্রেণীর মানুষদের উপকার হবে এই ব্লগ থেকে, ব্লগের সুফল ও কুফল খুঁজুন । কি উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার ব্লগটি যাত্রা শুরু করবে ? এটা কি শুধু মাত্র শখেরবশে নাকি মানুষের উপকারের জন্য নাকি শুধু টাকা আয় করার জন্য ? কক্ষনো টাকা আয় করার উদ্দেশ্য নিয়ে ব্লগি করবেন না, আপনার চিন্তা থাকবে শুধু মানুষের উপকার করা, তাহলেই আপনার টাকা উপার্জন হবে । যা হোক কয়েকটি সাধারণ উদ্দেশ্য হল –
১। প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি
২। প্রোডাক্ট বিজ্ঞাপন করা
৩। অ্যাড থেকে আয়
উপরে আমরা শুধু প্রাথমিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছি এবং এবার দ্বিতীয় দফায় কিছু জিনিস বিবেচনা করবো এবং একটা ব্লগ থেকে ভালো মানের আয় করার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
১। ব্লগ এস, ই, ও এর উপযোগী করে ডিজাইন এবং ডেভেলপ করতে হবে
২। ব্লগে ভাইরাল মার্কেটিং এলিমেন্ট থাকবে, যেমন ধরুন, অনেক বড় এবং খুবই উপকারী কয়েকটি পোস্ট ।
৩। ব্লগের বিষয়বস্তু গুলোকে ভিসিটরের চোখের সামনে রাখতে হবে যেন পাঠককে কোন বিষয় খুঁজতে কষ্ট করতে না হয় কারন অনলাইন পাঠক খুবই অলস ।


টার্গেট মার্কেট বা পাঠক নির্বাচনঃ
ব্লগটা পাঠকের উপর নির্ভর করে সাজাতে হবে কারণ বিভিন্ন পাঠকের রুচি বিভিন্ন । পাঠকের রুচি, বয়স, পুরুষ বা মহিলা বা উভয়ই যে কোন একটা ধরনের পাঠক নির্বাচন করতে হবে, এতে করে ব্লগ মার্কেটিং করতে সুবিধা হবে এবং আয় ও বাড়বে । যেমন ধরুন – আপনি “স্কিন ভালো রাখার মেডিসিন” নিয়ে আপনার ব্লগ লিখবেন তাহলে আপনার টার্গেট পাঠক থাকবে মহিলারা, তবে এক্ষেত্রে ৩৫+ মহিলারা থাকবে আপনার টার্গেট ভিসিটর কেননা ৩৫ বছর এর পর স্কিনে একটু সমস্যা দেখা দেয় । তবে ব্লগিং করার সময় পাঠকের –
১। চাহিদা
২। প্রয়োজনীয়তা
৩। এক্সপেক্টটেশন
বুঝে ব্লগে লিখতে হবে । পাঠক যেন ব্লগ পড়ে মুগ্ধ হয়ে যায়, আর মানুষ ভালো কিছু অন্য মানুষকে জানাতে চায় আর এই ভাবে ভালো বিষয় সোশ্যাল সাইট এ ভাইরাল হয়ে যায় মানে সবার মুখে মুখে থাকে ।
প্রোডাক্ট বা সার্ভিসঃ
ব্লগের বিসয়বস্তুর উপর নির্ভর করে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস প্রোমট করা যেতে পারে । যেমন –
১। বই
২। যদি ট্রাভেল ব্লগার হলে হোটেল, এয়ার লাইন
৩। টেকনোলজি ব্লগাররা গ্যাজেট
৪। সফটওয়্যার ব্লগাররা সফটওয়্যার
ইত্যাদি ।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান (এসইও) কেন শিখবেন?

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান (এসইও) কেন শিখবেন?
এই পোস্টটি মূলত ওয়েব ডেভলপার বা ওয়েবসাইট এর মালিকদের জন্য করা হলেও যারা ফ্রিল্যান্সিং-এ আগ্রহী তারাও এই পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারবেন যে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন বিষয় এর মধ্যে এসইও কতটা গুরুত্বপূর্ন আর কেন সকল ক্ষেত্রেই এসইও-এর অন্তত প্রাথমিক ধারনা থাকা প্রয়োজন। অনেক ওয়েবসাইটের মালিকেরা তাদের সময় স্বল্পতার কারনে তাদের সাইটের এসইও অন্য কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করিয়ে নেন। ফলে নিজে এসইও অজানা থাকায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়। যদি একান্তই আপনার সময়ের অভাব থাকে তাহলে এসইওর সবকিছু না জানলেও এসইও কিভাবে কাজ করে, কিভাবে করা হয়, এসইও করার সঠিক উপায় গুলো কি ইত্যাদি সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা থাকা উচিত। আসুন দেখে নেওয়া যাক কেন আপনার এসইও শেখা প্রয়োজনীয়।

এসইও কোয়ালিটিতে ঠকতে হয় না

ধরি, আপনি টাকা দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট এর এসইও করিয়ে নিচ্ছেন কিন্তু যার কাছ থেকে এসইও করিয়ে নিচ্ছেন সে সঠিকভাবে এসইও করছে কিনা তা কিভাবে বুঝবেন? কিছু ট্রিক আছে যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট কিছু সময়ের জন্য হয়তো সার্চ ইন্জিন এর কাছে জনপ্রিয় হতে পারে কিন্তু কিছুদিন পরই হয়তো আপনার র্যাং ক কমে যাবে সেই ভুল ট্রিক এর জন্য। তাই সঠিকভাবে এসইও করার সম্পর্কে যদি আপনার ধারনা থাকে তাহলে সেই এসইও-র কাজগুলো দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন যে কাজগুলো সঠিকভাবে করা হচ্ছে কি-না। তাই খারাপ কোয়ালিটির এসইও সার্ভিস এর হাত থেকে বাচতে আপনাকে অবশ্যই এসইও এর প্রাথমিক ধারনা রাখতে হবে।

আপনার ও এসইও প্রোভাইডার এর মধ্যে ভালো যোগাযোগ হবে

আপনি যদি এসইও একেবারেই না জানেন তাহলে কাজটি কিভাবে সম্পন্ন হবে তা নি যে এসইও প্রোভাইডারএর সাথে আলোচনায় আপনার কাছে অনেক কিছুই দুর্বোদ্ধ মনে হতে পারে। এসইও মোটামুটি শিখতে পারলে এই সমস্যাটি আর থাকবে না। আপনি আপনার চাহিদার কথা প্রেভাইডারকে যেমন সহজই বলতে পারবেন তেমনি এসইও প্রভাইডারের পক্ষেও তার কাজের অবস্থান আপনাকে সহজেই বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। যেমন: একজন যতই এসইও এক্সপার্ট হোন না কেন এসইও তে সফলতা পেতে কিছু সময় লাগতে পারে কিন্তু আপনি যদি এই বিষয়টি না জানেন তাহলে বেশি সময় লাগাটাকে তার ব্যার্থতা হিসেবে ধরে নিয়ে তার কাজের কোয়ালিটি সম্পর্কে খারাপ ধারনা পোষন করবেন। কিন্তু এই সময় লাগাটা একটি সাধারন ব্যাপার তা যদি আপনি আগে থেকেই জানতেন তাহলে এই ভুল বোঝাবুঝি হতো না।

আপনার ওয়েবসাইটএর আরও উন্নতি করতে পারবেন

কিছু কিছু ওয়েবসাইট-এর জন্য ফুল টাইম এসইও এক্সপার্ট নিয়োগ দেওয়া থাকে কিন্তু সব সাইটের ক্ষত্রে তা সম্ভব না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাইটের এসইও করার কাজ শেষ হওয়ার পর আপনার আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু আপনি যদি এসইওর নিয়ম কানুন জানেন তাহলে আপনার সাইটটি আপডেট করার সময় সাধারন পরিবর্তনগুলো আপনি নিজেই সেরে নিতে পারেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই। এতে আপনার সাইটটি আপনার মনের মতো করতে পারবেন ও কিছু অতিরিক্ত খরচও কমে যাবে।

ওয়েব ডেভলপিংএ-ও সাহায্য করবে

আপনি যদি আপনার নিজের সাইট নিজেই ডিজাইন করতে চান তাহলে সেক্ষেত্রেও এসইও আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। এসইওর নিয়ম অনুযায়ী আপনি আপনার ডিজাইন ও কোডগুলো সুবিন্যস্তভাবে সাজাতে পারলে তা সার্চ ইন্জিনের কাছেও অনেক ভালো সাইট হিসেবেই গন্য হবে। আর আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভলপার হয়ে থাকেন তাহলেও এসইও আপনাকে আপনার ক্যারিয়ার বিস্তারে সাহায্য করবে। আপনার দক্ষতা যত বেশি আপনার সফলতার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যাবে।

এসইও কোয়ালিটিতে ঠকতে হয় না

ধরি, আপনি টাকা দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট এর এসইও করিয়ে নিচ্ছেন কিন্তু যার কাছ থেকে এসইও করিয়ে নিচ্ছেন সে সঠিকভাবে এসইও করছে কিনা তা কিভাবে বুঝবেন? কিছু ট্রিক আছে যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট কিছু সময়ের জন্য হয়তো সার্চ ইন্জিন এর কাছে জনপ্রিয় হতে পারে কিন্তু কিছুদিন পরই হয়তো আপনার র্যাং ক কমে যাবে সেই ভুল ট্রিক এর জন্য। তাই সঠিকভাবে এসইও করার সম্পর্কে যদি আপনার ধারনা থাকে তাহলে সেই এসইও-র কাজগুলো দেখেই আপনি বুঝতে পারবেন যে কাজগুলো সঠিকভাবে করা হচ্ছে কি-না। তাই খারাপ কোয়ালিটির এসইও সার্ভিস এর হাত থেকে বাচতে আপনাকে অবশ্যই এসইও এর প্রাথমিক ধারনা রাখতে হবে।

আপনার ও এসইও প্রোভাইডার এর মধ্যে ভালো যোগাযোগ হবে

আপনি যদি এসইও একেবারেই না জানেন তাহলে কাজটি কিভাবে সম্পন্ন হবে তা নি যে এসইও প্রোভাইডারএর সাথে আলোচনায় আপনার কাছে অনেক কিছুই দুর্বোদ্ধ মনে হতে পারে। এসইও মোটামুটি শিখতে পারলে এই সমস্যাটি আর থাকবে না। আপনি আপনার চাহিদার কথা প্রেভাইডারকে যেমন সহজই বলতে পারবেন তেমনি এসইও প্রভাইডারের পক্ষেও তার কাজের অবস্থান আপনাকে সহজেই বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। যেমন: একজন যতই এসইও এক্সপার্ট হোন না কেন এসইও তে সফলতা পেতে কিছু সময় লাগতে পারে কিন্তু আপনি যদি এই বিষয়টি না জানেন তাহলে বেশি সময় লাগাটাকে তার ব্যার্থতা হিসেবে ধরে নিয়ে তার কাজের কোয়ালিটি সম্পর্কে খারাপ ধারনা পোষন করবেন। কিন্তু এই সময় লাগাটা একটি সাধারন ব্যাপার তা যদি আপনি আগে থেকেই জানতেন তাহলে এই ভুল বোঝাবুঝি হতো না।

আপনার ওয়েবসাইটএর আরও উন্নতি করতে পারবেন

কিছু কিছু ওয়েবসাইট-এর জন্য ফুল টাইম এসইও এক্সপার্ট নিয়োগ দেওয়া থাকে কিন্তু সব সাইটের ক্ষত্রে তা সম্ভব না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে সাইটের এসইও করার কাজ শেষ হওয়ার পর আপনার আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু আপনি যদি এসইওর নিয়ম কানুন জানেন তাহলে আপনার সাইটটি আপডেট করার সময় সাধারন পরিবর্তনগুলো আপনি নিজেই সেরে নিতে পারেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই। এতে আপনার সাইটটি আপনার মনের মতো করতে পারবেন ও কিছু অতিরিক্ত খরচও কমে যাবে।

ওয়েব ডেভলপিংএ-ও সাহায্য করবে

আপনি যদি আপনার নিজের সাইট নিজেই ডিজাইন করতে চান তাহলে সেক্ষেত্রেও এসইও আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। এসইওর নিয়ম অনুযায়ী আপনি আপনার ডিজাইন ও কোডগুলো সুবিন্যস্তভাবে সাজাতে পারলে তা সার্চ ইন্জিনের কাছেও অনেক ভালো সাইট হিসেবেই গন্য হবে। আর আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্স ওয়েব ডেভলপার হয়ে থাকেন তাহলেও এসইও আপনাকে আপনার ক্যারিয়ার বিস্তারে সাহায্য করবে। আপনার দক্ষতা যত বেশি আপনার সফলতার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যাবে।

শনিবার, ১৬ মে, ২০১৫

একটি চমৎকার আর্টিকেল লেখার কিছু কৌশল।

একটি চমৎকার আর্টিকেল লেখার কিছু কৌশল। 
আর্টিকেল রাইটিং অনেক সহজ !!! হুম, যেনতেন একটা আর্টিকেল লিখা অনেক সহজ। কিন্তু একটু ভালো করে গুছিয়ে আর্টিকেল লিখতে পারা একটা আর্ট বটে। আপনি যদি ভালো আর্টিকেল লিখতে পারেন, তবে এই পোস্ট আপনার জন্য নয়। আর যদি আর্টিকেল লিখা শিখতে চান, চলুন তবে সামনে এগিয়ে যাই।

প্রথমে আপনাকে ঠিক করতে হবে যে আপনি কি নিয়ে লিখতে যাচ্ছেন। লেখার বিষয় নির্দিষ্ট না থাকলে কিছুই লিখতে পারা যায় না। তাই আগে আপনার লেখার বিষয় টা ফিক্সড করে নিতে হবে।

যে বিষয়ে লিখতে যাচ্ছেন সেই বিষয়ে আপনার কেমন জানা আছে ? যদি ভালো জানা থাকে তো ভালো। আর যদি ভালো জানা না থাকে তখন ?
হ্যাঁ, তখন আপনাকে একটু সময় খরচ করে ওই বিষয় টা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। আর যদি ভালো জানা ও থাকে, তারপর ও লেখা শুরু করার পূর্বে একটু রিসার্চ করে নেয়া ভালো। এই বিষয়ের মেইন কিওয়ার্ড টা দিয়ে গুগলে রেঙ্কিং এ টপে থাকা ৩-৪ টা ওয়েবসাইট এর আর্টিকেলগুলো দেখে নিতে পারেন অথবা ওই গুলা পড়ে নিতে পারেন। এতে করে আরও ভালো ধারনা পাবেন।
ওই আর্টিকেলগুলো যেমন ই হোক, আপনি মনে বাসনা রাখবেন যে এর চেয়ে ভালো আর্টিকেল লিখবেন। আপনি তাদের লিখাগুলো খুব ভালো করে খুঁটিয়ে দেখবেন। কিন্তু তাদের লেখার ছাপ যেন আপনার আর্টিকেল এ না ডুকে সেই দিকে কড়া নজর রাখবেন।
আপনার লেখার স্টাইল, কোন বিষয়ে কিছু ডেলিভার করার স্টাইল, আর্টিকেলটির মাধ্যমে কিছু বোজানোর স্টাইল সব কিছু আলাদা এবং মানসম্মত করার চেষ্টা করবেন। চেষ্টা করতে থাকলে একদিন দুইদিনে হয়তো কিছু হবেনা। কিন্তু বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ক্রমাগত লেগে থাকার ফলে একদিন না একদিন আপনি খুব ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে পারবেন।

সার্চ ইঞ্জিনে আপনার আর্টিকেল টা ভালো রেঙ্ক পাক, আপনি নিশ্চয়ই তা চান ? যদি চান, তবে আপনার উচিত কিওয়ার্ড রিসার্চ করা। হেড কিওয়ার্ড এর চেয়ে লংটেইল কিওয়ার্ড ইউজ করলে আপনি রেঙ্ক পাবেন দ্রুত। আর লংটেইল কিওয়ার্ড ব্যাবহারে ভিজিটর কিন্তু হিসেবে বেশিই পাবেন। সাধারণত ৩ বা ততোধিক শব্দ নিয়ে গঠিত কিওয়ার্ড কে বলা হয় লংটেইল কিওয়ার্ড। আর হেড ? ওই যে দুইটা বা একটা কিওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। হেড কিওয়ার্ড অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ।

আপনি যখন আর্টিকেল লিখবেন, তখন এই বিষয় টা ও মাথায় রাখতে হবে। আপনি আর্টিকেল লিখবেন মানুষের জন্য। আপনার আর্টিকেল এর এক মাত্র পাঠক কিন্তু মানুষ, সার্চ ইঞ্জিন না। একটা ১০০০ ওয়ার্ড এর আর্টিকেল এ বারবারএকই কিওয়ার্ড পড়তে গিয়ে আসলে সেটা বিরক্তিকর লাগে না ? তাই কিওয়ার্ড ইউজ করতে হবে মেপে মেপে। সাধারণত ৩-৪% এর বেশি ব্যাবহার না করাই ভালো। আর বেশি কিওয়ার্ড ইউজ করলে আপনার আর্টিকেল পড়তে গিয়ে মানুষ যেমন বিরক্ত হবে, তেমনি সার্চ ইঞ্জিন বেচারারা ও মাইন্ড খাবে। আপনাকে উপরে তোলার পরিবর্তে নিচে নামিয়ে দিবে ! আপনি নিশ্চয়ই তা চান না ?

এতক্ষণ কথা চলছিলো আর্টিকেল লিখার পূর্বপ্রস্তুতির বিষয়গুলো নিয়ে। এখন সোজা কিভাবে লিখতে হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। ভালোভাবে শুরু করতে পারাটায় ও অনেক কিছু নির্ভর করে। অনেক ভিজিটর আপনার আর্টিকেল এর প্রথম দুইতিন টা লাইন পড়েই চেষ্টা করবে ভিতরে কি আছে তার ধারণা নিতে। ওই বেচারার আর দোষ কি, আপনি নিজেও তো এমন করেন ? করেন না ?
আচ্ছা কোন আর্টিকেল লিখার জন্য যে স্টার্টিং টা করেন, সেটা কিভাবে করেন ? যেনতেনভাবে শুরু করাটা নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না, তাই না ?
সুচনাতে আপনি বলতে পারেন ভিজিটরদের আকাঙ্ক্ষা কি এই বিষয়ে এবং আপনার এই আর্টিকেল টি কি কি বিষয়ে বর্ণনা করতে চলছে।
উদাহরণ হিসেবে আমার এই আর্টিকেল টির সূচনাটাই লক্ষ্য করেন না হয় ! আরেকটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন লেখা শুরুর করার সময়। যারা দুই-ছাড় লাইন পরেই ভিতরের ভাব-সাব বুজে এর পর পুরাটা পড়তে চায়, তাদের জন্য আপনাকে একটু ভাবতে হবে। সূচনা পর্যায়ে এমনভাবে কিছু শব্দ উপস্থাপন করুন, যাতে ওই বেচারা ভিতরে কি আছে তা পড়তে আগ্রহী হয়।



এই রে !!! মুল অংশে চলে আসলাম ! আর্টিকেল এর প্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ব্যাপারটা লিখা অনেক সহজ ! কিভাবে ?
মনে আছে আপনি সূচনা পর্বে কি বলেছিলেন ? আপনি বলেছিলেন যে আপনি ভিতরে এই এই আলোচনা করবেন। এখন বডি তে এসে সেই সেই আলোচনাই করুন না !!! আপনাকে বেঁধে রেখেছে কে !!!
হুম, বডি তে এসে যে বিষয়ে আর্টিকেলটি রচনা করতে যাচ্ছেন, সেই বিষয়ে ভালো করে আলোকপাত করুন। ভিজিটরকে ভালো করে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করুন। তাকে এই বিষয়ে পারলে ক্লিয়ার করে তলুন। যতো বেশি আপনি তাকে বোজাতে পারবেন, তত বেশি আপনার আর্টিকেল এর সফলতা।

এইটা লেখা তো আরও সহজ ! বডি তে কি বলেছিলেন মনে আছে ? আর সূচনাতে ? হুম, সেটাই এবার ইউজ করবেন। কিভাবে ?
উপসংহার  এ এসে বলতে পারেন যে বিষয় টি আসলে কেমন শিখার জন্য বা পড়ার জন্য বা কেরিয়ার হিসেবে বা যে ক্ষেত্রে মানায়, সেই ক্ষেত্রে। তাছাড়া, ভিজিটর আর্টিকেল এ কি রকম বিষয়ে ধারণা পেলো, সেই বিষয়ে ও বলতে পারেন। আর উপসংহার  পারলে ছোট্ট একটা প্রশ্ন দিয়ে শেষ করবেন। এই ছোট্ট প্রশ্নটা সব আর্টিকেল ই যে করা যাবে তা না কিন্তু। এইটা আপনার উপসংহার  এর প্রথম দিকে বক্তব্য এর সাথে মিল খেলেই আপনি করতে পারবেন। কেমন প্রশ্ন ?
  • আপনার কি মনে হয় ?
  • কি মনে হয় করতে পারবেন ?
  • কি মনে করেন, সহজ নাকি কঠিন ?
এইগুলো শুধু উদাহরণ। এই রকমকরে ছোট্ট প্রশ্ন করতে পারেন। এই রকম প্রশ্ন আপনার আর্টিকেল এর যে কোন অংশেই করতে পারেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন, কিওয়ার্ড ডেনসিটি এর মতো এইটা যেন আবার বেশি না হয়ে যায়! একটা আর্টিকেল এ ২-৩ বার করাই যথেষ্ট।

উপসংহার টানা শেষ করে মানে আর্টিকেল লিখা কমপ্লিট করে আর্টিকেল টা একবার হলেও রিভিউ দেন। পারলে কয়েকবার। দেখেন কোন ভুল টুল আছে কিনা ! তথ্য আরও একটু যোগ করা দরকার কিনা। প্রাঞ্জলতা আছে কিনা। কোন জায়গায় বেশি ভাব বেক্ত করা হয়ে গেছে আবার অন্য জায়গায় সাদা মাটা এই রকম কিনা। এইভাবে রিভিউ দিয়ে আর্টিকেল টারে মানুষ করেন !! ইয়ে মানে, পরিপাটী করে তলুন। ও হ্যাঁ, আর্টিকেল এর মধ্যে ইমেজ যোগ করতে হবে কিনা, এই ব্যাপারটা ও মাথায় রাখুন। ইমেজ যোগ করতে হলে মানানসই ইমেজ যোগ করুন।
এইবার টানতে হবে আমার এই আর্টিকেল এর উপসংহার । তবে উপসংহার  টানার আগে কিছু কথা বলে নেয়া জরুরী মনে করছি।
বিশেষত ইংরেজি আর্টিকেল লিখতে গিয়ে অন্যান্য ভাষাধারীদের মতো আমাদের ও সমস্যায় পরতে হয়। তবে তাতে কি হয়েছে !!! থেমে থাকবো নাকি !!!
কক্ষনো না ! ভাষা হল ভাব প্রকাশের মাধ্যম। আর পরিপূর্ণভাবে ভাব প্রকাশের জন্য ভাষার উপর দক্ষতা থাকা ও জরুরী। ইংরেজি তে দুর্বল হলে প্রতিদিন অল্প অল্প করে ডেভেলপ করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন ওষুধের ডেইলি ডোজ এর মতো কিছু ইংরেজি টু বাংলা শব্দার্থ শিখুন। কিছু গ্রামার প্র্যাকটিস করুন। হয়ে যাবে ! কি মনে হয়, হবে না ???
আর্টিকেল লিখার জন্য কিছু সিস্টেম এ লিখতে হয়। মানে এক সিস্টেম এ আপনি প্রত্যেক টা আর্টিকেল লিখতে পারবেন না। লেখা উচিত না। এতে যে আপনার নিয়মিত ভিজিটর রা বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই শুরু, সমাপ্তি, মুল বক্তব্য পেশ এইসব গুলোতে স্টাইল এর বিভিন্নতা আনতে হবে। মাঝে মাঝেই স্টাইল এ চেঞ্জ আনবেন।
অনেক ব্লগর ব্লগর করলাম। জানি না কার কেমন উপকার করতে পারলাম। তবে জানি, উপকার করতে না পারলে, এতক্ষনে কারও সময় হয়তো নষ্ট করে ফেলেছি !

ফ্রিলান্সার হতে চান? আগে কাজ শিখুন

ফ্রিলান্সার হতে চান? আগে কাজ শিখুন

২০১২ সালের প্রথম দিকের কথা। তখন আমি আমাদের জেলার সরকারি কলেজে অনার্স করছিলাম।  ছাত্র হিসেবে খারাপ না তাছাড়া ইংরেজি ভাষাটার প্রতি ছিল আমার অঘাট কৌতূহল ও শ্রদ্ধা। তাই পড়ছিলাম ইংরেজি বিষয়ের ওপরই। প্রথম বছরটা ভাল করে পার করে আমি তখন ২য় বর্ষে।
ইন্টারনেটের এই যুগে ফেসবুকের প্রভাবটা স্বাভাবিকভাবে আমার উপরেও পরেছিল। এর ফলে আমি আস্তে আস্তে জানতে পারি অনলাইনে নাকি টাকা আয় করা যায়। প্রথম দিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলেও পরে অনলাইনের মাধ্যমে দুর-দুরান্তের বিভিন্ন মানুষের সাথে যোগাযোগের ফলে নিশ্চিন্ত হই যে ব্যপারটা সঠিক। এরপর আরও নিঃসন্দেহ হলাম যখন নিজ জেলার কিছু ফ্রিলান্সারদের সাথে পরিচিত হলাম। তাছাড়া অনলাইনে কাজ করে এমন ২/১ জনের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে (নাম উল্লেখ করতে চাচ্ছি না)। বন্ধুরা আমাকে উৎসাহ দিতে থাকে যে শুধুমাত্র ইংরেজি গল্প লিখেও নাকি টাকা আয় করা যায়। শুনে তো ভালই লাগছে। ওরা ঢাকাতে থেকে কাজ করে কিন্তু গ্রামের বাড়ি আমাদের জেলাতেই। বিশ্বাস করেন তখনো জানতাম না আসলে কি হতে চলেছে!
একদিন/ দুইদিন এভাবে যেতে যেতে ফ্রিলান্সিং এর ব্যপারটা মাথায় চেপে বসে। চিন্তা করতে লাগলাম আমি কি পারবো না! ওরা পারলে আমি কেন না!!! খুব একটা সচ্ছল পরিবারের সন্তান না আমি। তাই ভাবলাম পড়াশুনার পাশাপাশি টুকটাক কাজ করলে ক্ষতি কি? বাড়িতে বলে কয়ে একটা কম্পিউটার কিনলাম। সত্যি কথা বলতে পূর্বে আমার কম্পিউটার সম্পর্কে তেমন একটা ধারনা ছিল না। তাই ২/১ মাস এমনিই টাইপিং এর জন্য অনুশীলন করতে থাকি। সাথে চলে ইন্টারনেট ব্রাউজিং। কম্পিউটার তো হল এবার অনলাইনে কাজ করবো ক্যামনে! আগেই বলে রাখি যে আমার খালাতো ভাই ওয়েব ডেভেলপিং এর কাজ করে। ঢাকাতে থাকে পরিবার সহ। ভাইয়ার সাথে কথা হয় এই ব্যপারে। উনি আমাকে জানালেন এই কাজ করে ফ্রিলান্সিং করতে তোমাকে আগে কাজ শিখতে হবে এবং কাজ শিখতে অন্তত ৬/৭ মাস অনুশীলন করতে হবে। এদিকে শুনছি ঢাকার বন্ধুরা নাকি ৪০/৫০ হাজার টাকা করে ইনকাম করছে প্রতি মাসে। আমি ওদেরকে বললাম আমাকেও কাজ দাও, করবো। ওরা আমাকে ওদের সাথে কাজে নিতে রাজি হল। আমি জানতে চাইলাম তোমাদের এই শিখতে কতদিন লাগবে? ওরা বলল খুব ইজি কাজ। ৪/৫ দিন দেখলেই হয়ে যাবে। এবং কাজ করতে হলে নাকি ঢাকাতে থাকতে হবে। তারপর বললাম কেমন আয় হবে আমার? ওরা জানালো যেমন করবে তেমন পাবে। তবে আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা ধরে রাখেন। শুনে আমি তো পুরাই “থ” হয়ে গেলাম।
বিশ্বাস করেন তখনও জানতাম না আসলেই কি হতে চলেছে! তাই এবার আমি পরলাম মহা-চিন্তায়। ওয়েব ডেভেলপিং এর কাজ শিখবো ৬/৭ মাস ধরে! নাকি বন্ধুদের সাথে কাজ করে চলতি আয় করবো প্রতি মাসে! কিন্তু ঢাকাতে গেলে তো পড়াশুনা হবে না। ফ্রিলান্সিং এর ভুত টা মনের মধ্যে এমন ভাবেই গেঁথে গেছে যে তখন মনে হচ্ছিল পড়াশুনা করে কি হবে আর? ওদিকে বন্ধুরা মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করছে ম্যাট্রিক পাশ না করেও। আর আমার তো ইংরেজি জ্ঞান খারাপ না।
বাড়িতে জানালাম আমার পরিকল্পনা। বাবা-মা কেউই রাজি না। বলল যত কষ্টই হউক না কেন আগে অনার্স টা শেষ কর। আসলে তখনও বুঝতে পারিনি আসলেই কি হতে চলেছে! তাই পরিবারের সবাইকে নাম মাত্র বুঝিয়ে পারি দিলাম ঢাকার পথে। উদ্দেশ্য একটাই অনলানে টাকা আয় করবো, হাতে আমার একটা কাপড়চোপড়ের ব্যাগ আর একটা ল্যাপটপ। (ধৈর্যহারা হবেন না প্লিজ। আর আছে।)
আসলে অনলাইনে সাধারনত কি কি কাজ করা যায় জানা ছিল না আমার। ঢাকাতে গিয়েই আমার পরিচয় হয় ওডেস্ক এর সাথে। জানতে পারলাম এখান থেকে নাকি কাজ নিয়ে নিয়ে করতে হয়। তবে নতুনদের কাজ নিতে অনেক কষ্ট হয়। যাই হউক আমার এগুলো নিয়ে চিন্তা করার কোন মানে হয় না। কারন আমিতো করবো আমার বন্ধুদের দেয়া কাজ যা করলে আমি পাব প্রতি মাসে কমপক্ষে ১৫০০০ টাকা। ভাবতেই অবাক লাগছে। ওখানে গিয়ে দেখি আমার সাথে আরও ৩/৪ জন যারা আমার মত কাজ করবে। পরে ৩/৪ দিন ধরে কাজ দেখিয়ে দিল কিভাবে করতে হয়। আমরা করতে থাকলাম। কারন তখনও জানতাম না আসলেই কি হতে চলেছে! শুধু এইটা জানতাম অনলাইনে নাকি সবাই এই ধরনের কাজই করে। যেমন ক্যাপচা এন্ট্রি, ক্রেইগগ্লিস্ট, ডাটা এন্ট্রি, আর্টিকেল রাইটিং। তো আমি ওখানে গিয়ে মূলত ক্রেইগগ্লিস্ট এর কাজ করতে থাকি।

পরে আস্তে আস্তে কিছু সমস্যা দেখা দিতে থেকে। যেমনঃ ১। আজ কাজ করা যাবে না, সার্ভার ব্যস্ত। ২। আজ কাজ করা যাবে না, বায়ার নিষেধ করেছে। তাছাড়া মাস শেষে বলে কাজের রেট খুব কম। তাই এই মাসের বাড়ি ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া আনুসাঙ্গিক সব খরচ করে মাস শেষে কিছু থাকছে না। এভাবে চলতে থাকে ২/৩ মাস। এতে আমার মনে হচ্ছে কেন এলাম আমি এগুলো করতে? আসলে সবার কথা অমান্য করাটাই আমার ভুল হয়েছে। হয়তো আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে এই আশায় পড়ে থাকি আরও কয়েকটি মাস। এদিকে বাড়ি থেকে জানতে চায় আমার অবস্থা। আমি সবাইকে জানাই যে কাজ শিখতে অনেক সময় নিচ্ছে। পুরোপুরি ভাবে কাজ করতে আরও ২/১ মাস লাগবে।
কিন্তু আমার অবস্থার কোন ইতিবাচক পরিবর্তন না হওয়াতে সিদ্ধান্ত নিলাম যা হওয়ার হবে। বাড়ির একমাত্র ছেলে আমি। হয়তো আমার এ অন্যায় তারা ক্ষমা করে দিবে। অবশেষে ৬ মাস পর ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসি (অবশ্য ঢাকা থাকাকালীন এর মধ্যে ২ বার বাড়িতে এসেছিলাম)। এর মধ্যে আমার পড়াশুনাতে ১ বছর সময় নষ্ট হয়। তাতে কি আমি আমার শুরু করে দিলাম লেখা পড়া। আর অভিজ্ঞ ফ্রিলান্সার খালাতো ভাইয়ের পরামর্শে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ শেখা আরম্ভ করে দিই। এর মধ্যে বিভিন্ন ভিডিও / পিডিএফ বই সংগ্রহ করে এই চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কাজ শেখা শুরু করি। প্রতিদিন ৮+ ঘণ্টা করে অনুশীলন করে যাচ্ছি এখন পর্যন্ত। যার ফলে আমি এখন HTML, CSS, PHOTOSHOP, JAVACRIPT আয়ত্তে এনেছি। অনলাইনে খালাতো ভাই এবং বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ওয়েব সাইট এর সাহায্যে এখন আমি ওয়েব ডিজাইনিং এ অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছি। ডিজাইনিং এ ভাল করতে পারলে পরে ডেভেলপিং এর কাজে নজর দিব।
এখন মনে হচ্ছে আমি অনেকটাই সুস্থ পরিবেশে বাস করছি। নিজের ভুলে এবং আবেগের মোহে নিজের বিবেক বুদ্ধিকে বিসর্জন দিয়ে অনেকটা সময় নষ্ট করেছি। কারন আমি প্রথমবস্থায় সুনির্দিষ্ট ও ভালুয়েবল কোন কাজ না শিখেই ফ্রিলান্সিং করতে মাঠে নেমে পরেছিলাম। এবং যেই ধরনের কাজ আমি করতাম সেই কাজ গুলি এখন নাকি আর ওডেস্ক এ নেই। ভাবতেই গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়।
নিজের ভুল আমি নিজেই বুঝতে পেরেছি। তাই আমি চাই আমার মত ভুল যেন কেউ না করে। তাই আমি আপনাকে বলবো যে, আপনি যদি আউটসরসিং করতে চান তবে অবশই কাজ শিখুন। না হলে আপনার মূল্যবান সময়টুকুই নষ্ট হবে। এর বেশি কিছু না। এখন আমি পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ শিখছি ডেইলি রুটিন অনুযায়ী। ফ্রিলান্সিং এর বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস গুলো সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা হচ্ছে দিন দিন যা গত ৪ মাস আগেও ছিল না। আমি মনে করি এই ধরনের কাজের মূল্য সবখানে সবসময়ই আছে। এখানে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় অনায়াসেই।

আত্মবিশ্বাস টাই সফল ফ্রিলান্সার হওয়ার প্রধান হাতিয়ার

আত্মবিশ্বাস টাই সফল ফ্রিলান্সার হওয়ার প্রধান হাতিয়ার


“সবাই নাকি এখন কম্পিউটার ব্যবহার করে ঘরে বসেই খুব সহজে হাজার হাজার ডলার আয় করছে!” হয়ত কথাটি আপনি প্রায়ই শুনে আসছেন। এবং আশ্চর্যও হচ্ছেন। কারণ আপনি এই লাইনে একদম নতুন। কারণ সেই বাপ-দাদাদের আমল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা শুনে আসছি লেখাপড়া শেষ করে চাকুরি বা ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবন চালাতে হয় আর হঠাৎ করে এগুলো কি!!! মানুষ মাত্রই কৌতুহুল প্রিয়। তাই আপনি অনেক জাচাই-বাছাই করে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, হাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেলেন। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন আপনিও এরকম ডলার আয় করবেন। কিন্তু কিভাবে? সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। যাহ্‌ হতাশ হলেন! (টিউনটির শিরনামটা মনের মধ্যে গেঁথে আমার লেখা গুলো কস্ট করে পড়ুন। প্রাথমিক ধারণা পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।)

সত্যি কথা বলতে আপনি যা শুনেছেন তা পরিপূরণভাবে ঠিক শোনেন নি। কারণ যারা হাজার হাজার ডলার আয় করে ওই সব মানুষ গুলোকে খুব কষ্ট করেই কাজ করতে হয়। সাধারণত আমারা যেমন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাকা ইনকামের জন্য ছুটাছুটি করি ঠিক অনুরূপ এখানেও কাজ করতে হয়। তবে তুলনামুলকভাবে অনেক সুবিধা আপনি পাবেন। যেমন আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট কাজে ভাল পারদর্শী হতে পারেন তাহলে এখানে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। এবার মনে মনে ভাবছেন যে সবই তো বুঝলাম কিন্তু কাজে পারদর্শী হব কিভাবে? (বলছি। সাথেই থাকুন।)

আমি আগেই বলেছি অনলাইনে কাজ করতে বা একজন সফল ফ্রিলান্সার হতে “আত্মবিশ্বাস” টাই প্রধান হাতিয়ার। এছাড়া আপনার থাকতে হবে একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ। আর থাকতে হবে কাজ করার ইচ্ছা ও কিছুটা সময়। ভাবছেন আপনি খুব ব্যস্ত মানুষ তাই পড়াশুনা/ চাকুরী/ ব্যবসা করেন। মনে রাখবেন দিনে কমপক্ষে ১/২ ঘণ্টা কাজ করেও আয় করা যায়।

ইন্টারনেট ব্যবহা করে আয় করার পদ্ধতি আছে তাই এতটুকু নিশ্চিত থাকেন এতে কোন ফাকিবাজি নেই। কারণ অগণিত মানুষ আজ এসব করে ইনকাম করছেন, সারা বিশ্ব তো বটেই, বাংলাদেশও। তাই আপনার ওপরই নির্ভর করছে আপনি কিভাবে শুরু করবেন এবং কবে থেকে করবেন। অনলাইনে অনেক কাজ পাওয়া যায়। যেমনঃ ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ফটোগ্রাফি, ফাইল আপলোড, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি, গুগল এডসেন্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং। (আরও অনেক ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আপনারা কস্ট করে গুগল সার্চ দিয়ে জানতে পারবেন।) এদের মধ্যে আপনার পছন্দের কাজটি বেছে নিন। এবং আপনাকে কিছুদিন সময় দিয়ে কাজ শিখতে হবে। কিভাবে কাজ শিখবে সেটাও বলি। আপনি কোন আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা দিয়ে কাজ শিখতে পারেন। যদি সেরকম কোন সুবিধা না থাকে তবে নিজেকে করে ফেলুন প্রচুর আত্মবিশ্বাসী। ইন্টারনেট হতে পারে আপনার একমাত্র শিক্ষক। অনলাইনে সব ধরনের কাজের ওপর অনেক টিউটোরিয়াল সাইট আছে যেখান থেকে আপনি অনায়াসেই কাজ শিখতে পারবেন। তাছাড়া অনলাইনে কাজ করে এমন কিছু মানুষের সাথে যোগাযোগ করুন। জানা-অজানা অনেক দিক নির্দেশনা পাবেন বলে আশা করি। আমি নিজেও এভাবেই কাজ শিখছি। আপনি যদি একেবারে নতুন হন তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন।

ভাবছেন কতদিন লাগবে কাজ শিখতে এবং কত দিনে আয় করা যায়? আসলে আমি আগেই বলেছি আপনাকে আপনার লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কি কাজ আপনার ভাল লাগে সেইটা শেখার চেষ্টা করুন। আপনি যেমন সময় এখানে ব্যয় করবেন তেমন শিখতে পারবেন। ধরুন উধাহরন স্বরূপঃ আপনি ওয়েব ডিজাইন শিখবেন। তো নিজের একান্ত প্রচেস্তায় এইটা শিখতে সময় লাগবে ৩/৪ মাস। যদি আপনি প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ ঘণ্টা করে সময় দেন (একান্তই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বললাম)। এখন আপনিই হিসেব করে দেখুন আপনি কতটা সময় এখানে দিতে পারবেন আর কতদিন লাগতে পারে কাজটি শিখতে। আপনার প্রাথমিক দক্ষতা এবং আগ্রহ অনুযায়ী নির্বাচন করুন কোন কাজ টা আপনার সাথে যায়? তারপর ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করুন।

মনে রাখবেন কোন কাজ-ই সোজা না। আমার নিজের দেখা অনেকি আছে যারা কোন কাজ শেখা শুরু করে ২/৪ দিন প্র্যাকটিস আগ্রহ সহকারেই। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তারা ভাবে এই কাজ টি মনে হয় একটু বেশিই কঠিন ও ঝামেলার। তাই তারা আরেকটি কাজ শেখার জন্য সহজ কাজ শিখতে যায়। কিন্তু কোন কাজই সহজ না। আপনি হয়ত দুয়েকদিন পরে আবার কঠিন মনে করে ধৈর্যহারা হবেন। এতে আপনার মূল্যবান সময়টাই হারাবেন। আপনি যেইটা দিয়ে জীবনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চান সেই কাজটা আগ্রহ সহকারে শিখুন। অনেক অনেক আত্মবিশ্বাসী হউন। একবার ভাবুন সবাই পারলে আপনি পারবেন না কেন? কম্পিটিশনের যুগে সবাই যে যেদিক দিয়ে পারছে এগিয়ে যেতে মরিয়া। এই যুগে আপনি থেমে থাকলেন তো পিছিয়ে পরলেন। তাই প্রতিটা দিনকে মনে করুন আপনার চ্যালেঞ্জ। একটা দিন থেমে থাকা মানে আপনার জায়গাটি দখল করে নিল অন্যকেও। ঠিক যেমন ছেলেবেলায় আমরা যেভাবে স্কুলে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম।

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে যারা প্রতারিত, তারা জানুন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে?

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে যারা প্রতারিত, তারা জানুন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে?
ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেক প্রতারণা চলে অনলাইনে, নানা প্রতারক নানা ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রতারণা। ক্লিক করলে টাকা পাওয়া যায়, এমন সব কুকর্মকে কেউ কেউ বলছে ফ্রিল্যান্সিং। প্রকৃতপক্ষে PTC বা ক্লিক করে টাকা উপার্যনের কথা যারা বলেন, তরা মূলত মানুষকে প্রতারিত করছে, এটা কোন ফ্রিল্যান্সিং নয়। যারা এভাবে প্রতারিত হয়েছেন, তারা জানুন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে?
বর্তমান বিশ্বে Online Freelance একটি জনপ্রিয় কর্মক্ষেত্র। যে কেউ খুব সহজে এবং বিনা পুঁজিতে ফ্রীল্যান্সিং শুরু করতে পারেন। মজার ব্যপার হচ্ছে আমাদের দেশে অনেক প্রতিভা আছে ও অনেক সম্ভাবনা আছে, শুধু দরকার তাদেরকে সঠিক তথ্য, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার দিয়ে সহযোগিতা করা। কিন্তু দুঃখের বিষয় শুধু মাত্র সঠিক তথ্য এবং দিকনির্দেশনার অভাবে দিনের পর দিন আমরা পিছিয়ে আছি।

ফ্রিল্যান্সিং কিঃ
সবাই বলে Freelance বা ফ্রিল্যান্সিং; আসলে এই Freelance টা কি? সহজ কথায় ফ্রীল্যান্সিং হল পারিশ্রমিকে বিনিময়ে স্বাধীন ভাবে অন্য কারও কাজ করে দেয়া। আমাদের দেশে Freelance বলতে আমরা বুঝি অন্য দেশের কাজ একটা Marketplace থেকে যোগাযোগ করে, কাজ নেয়া এবং সেটা পারিশ্রমিকে বিনিময়ে করা।


ফ্রীল্যান্সিং এর ক্ষেত্রঃ
oDesk, Elance, Freelancer, Guru, PeoplePerHour সহ আরও অনেক সাইট রয়েছে যেখানে আপনি বিনামুল্যে নিবন্ধিত হতে পারেন এবং কাজ শুরু করতে পারেন।


ফ্রীল্যান্সিং এর সুবিধাঃ
Freelance এর অনেক সুবিধা আছে, যেমন আপনি নিজে নিজের কাজ ঠিক করতে পারছেন, নিজের পছন্দ মত কাজ বেছে নেয়ার সুযোগ, মার্কেট সম্পর্কে ধারনা পাবেন, আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানির সাথে কাজ করার সুযোগ, নিজের পরিচয় এবং কাজকে অন্যদের জানাতে পারছেন, অবশ্যই আপনি উপার্জন করছেন, আপনার দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছেন, সর্বোপরি এই বিশ্বায়নের যুগে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছেন।


কি কি Freelance করতে পারেনঃ
অনেক ধরনের কাজ আছে, আপনি আপনার পছন্দ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী যেকোনো কাজ করতে পারেন। তবে আপনি যে কাজটি করবেন, তার একটি নুন্যতম মান থাকা ভাল। Data Entry, Web Research, Social Media Marketing, Web Design, Programming, Search Engine Optimization, Writing, Graphics Design, Application Development ইত্যাদি আপনাকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। শুধু মাত্র টাকা উপার্জন করার জন্য Freelance করা এবং নিজের অমূল্য সময় নষ্ট করা একই কথা। আপনাকে অবশ্যই এমন কাজ বেছে নেয়া উচিত যেটা আপনার ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। আপনি এমন কাজ করেন, যেটা দিয়ে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, গর্ব করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে আপনার কাজে লাগবে।


ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য চাই সঠিক দিকনির্দেশনাঃ
সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে, আপনিও হতে পারেন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হল, গতানুগতিক কোন প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে, সফল ফ্রিল্যান্সারদের সহযোগিতা নেয়া, তাদের কাছ থেকে সরাসরি হাতে কলমে শিক্ষা নেয়া, কেননা তারা কাজ করেছে , তারা জানে কোথায় ভুল হয়, কোনটা করা ভাল আর কোনটা করা ঠিক না।


নিজেকে ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য তৈরি করুনঃ
প্রথমে কোন কিছু না জেনে, Freelance শুরু করা বা করতে যাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে নিজেকে তৈরি করুন এবং এরপর শুরু করুন। খুব ভাল হয়, আপনি যদি কোন একটা বা একাধিক কাজের উপর প্রশিক্ষণ নেন। যেমন ধরুন, ওয়েব ডিজাইন এর কথা HTML, CSS দিয়ে আপনি কাজ শুরু করতে পারেন এবং কাজ করতে করতে নিজেকে আর দক্ষ করে তুলতে পারেন। কাজ করার জন্য সময় নির্বাচন, কম্পিউটার এবং অন্য সব কিছু ঠিক করে নিতে হবে এবং সর্বোপরি নিজেকে কাজ করার উপযোগী করে তুলতে হবে এবং আমি আবার বলছি, এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ এর কোন বিকল্প নেই। আপনার নিজের কিছু কাজের Portfolio, কোন নিজস্ব Blog বা Forum আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে, এক্ষেত্রে যদি আপনার নিজস্ব ওয়েব পেইজ থাকে তাহলে অনেক ভাল হয়।

পেশাগত স্বাধীনতা বিশ্লেষণঃ ব্লগিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং ?

পেশাগত স্বাধীনতা বিশ্লেষণঃ ব্লগিং নাকি ফ্রিল্যান্সিং 
ফ্রিল্যান্সিং নাকি ব্লগিং? কোনটি স্বাধীন পেশা? এই প্রশ্ন কি কখনও আপনার মাথায় এসেছে? কখনও কি বিচার বিশ্লেষণ করেছেন? আমার মাথায় হঠাত এই প্রশ্নটা ঘুরছে। অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে তাই লিখতে বসলাম। আসলে কোনটি স্বাধীন পেশা? ফ্রিল্যান্সিং নাকি ব্লগিং?

ফ্রিল্যান্সিং কি?


ফ্রিল্যান্সিং কি?
বিচার বিশ্লেষণের আগে জানতে হবে ফ্রিল্যান্সিং এবং ব্লগিং জিনিসটা কি? প্রথমেই জানি ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে। তার আগেও আরেকটি ব্যাপার কিছুটা পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমরা আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং শব্দ দুটোকে একই মনে করে থাকি। কিন্তু আসলেই কিন্তু তা নয়। আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের কোন কাজ নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর দ্বারা না করিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেয়াকে আউটসোর্সিং বলা হয়। আর ঘরে বসেই বাহিরের কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়। কোন এক জায়গায় পড়ে, এমন সংজ্ঞাই জানতে পেয়েছি। তবে ভুল বলে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা আউটসোর্সিং নিয়ে কথা বলছিনা। আমরা বলছি ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে। তাই আউটসোর্সিং কে আপাতত টপিকের বাহিরে রাখি।

আমরা সাধারণত ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সারের মতো মার্কেটপ্লেসে বিভিন্ন কাজ আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করি এবং সেই কাজটা পেলে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সেটা করে দেই ক্লায়েন্টকে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং অনেক জনপ্রিয় একটি পেশায় পরিনত হয়েছে। যা স্মার্ট আয়ের পথও হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে কোন কাজ করার ধাপগুলো আরেকটু মনে করিয়ে দেই। প্রথমে অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলো যেমনঃ ফ্রিল্যান্সার, ওডেস্কে বিভিন্ন কাজ পোস্ট হয়। ধরুন আপনি একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং আপনার সম্পর্কিত একটি কাজে আবেদন করলেন আর সেটা পেয়েও গেলেন। সময় ১০দিন, পারিশ্রমিক ১০০ ডলার। এখন আপনাকে অবশ্যই এই ১০ দিনের মাঝে ওই কাজটি করে দিলেই ১০০ ডলার পাবেন। আপনি কাজটা ১০ দিনের মাঝে যেকোন সময়ই করতে পারেন তাও আবার ঘরে বসেই। আর এটাকেই বলা হয়ে থাকে "ফ্রিল্যান্সিং"।

ব্লগিং কি?

ব্লগিং কি?
কোন বিষয় বা সীমাহীন কোন বিষয় নিয়ে অনলাইনে লেখালেখিকেই এক বাক্যে ব্লগিং বলা চলে। তবে ব্লগিং দুই ধরনের হতে পারে। শখের ব্লগিং এবং আয়ের জন্য ব্লগিং। আমরা এখানে যেহেতু পেশা নিয়ে কথা বলছি। তাহলে নিশ্চই আয়ের জন্য যে ব্লগিং করা হয় সেটাকেই সামনে আনব? ব্লগিংও এখন আয় উপার্জনের এক বিরাট পেশা। তবে বাংলাদেশে এই পেশা এতো জনপ্রিয় না হওয়ায় এটা আমাদের কাছে খুব একটা বোধগম্য নয়। ব্লগিং করে লাখপতি, কোটিপতি ব্লগারদের সম্পর্কে জানতে পারবেন একটু গুগলে সার্চ দিলেই। এ ক্ষেত্রে আমি ইন্ডিয়ান ব্লগার Harsh Agrawal এর নাম তুলব। যিনি ব্লগিং করে আয়ের অন্যতম একজন সফল ব্লগার।

 শখের বশে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত তিনি একজন পেশাদার ব্লগার হয়ে উঠেছেন এবং ব্লগিং কেই পেশায় পরিণত করেছেন। হাজার হাজার ডলার মাসে আয় করেন অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং আরও কিছু বিজ্ঞাপন এজেন্সির মাধ্যমে। অন্যতম জনপ্রিয় টেক ব্লগ হলো ShoutMeLoud.Com । আর এই ব্লগই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়েছে। গ্রাজুয়েট করে আজ তিনি অন্য সাধারন ১০ জনের মতো চাকুরী করেন নি। ব্লগিং কেই বানিয়েছেন পেশা। আর তা থেকে যা আয় হয় তা সাধারন কোন পেশার সাথে তুলনা করা চলে না। বলতে হয় অনেক অনেক বেশিই আয় করেন তিনি ব্লগিং করে। আমি আবার কাহিনীতে চলে যাচ্ছি। অযথা দীর্ঘাইয়িত করছি লেখাটা। আমি আসলে বলতে চাচ্ছি ব্লগিং এর সংজ্ঞাটা। আপনি কোন এক বিষয়ে ব্লগ লেখেন, অনেক অনেক ভিজিটর পান আর সেখানে অ্যাডসেন্স বা অন্য কোন অ্যাড এজেন্সি কিংবা অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আয় করতে পারেন হাজার হাজার ডলার।

ব্লগিং vs ফ্রিল্যান্সিং। কোনটি স্বাধীন পেশা?

কোনটি স্বাধীন পেশা?
আশা করছি, ফ্রিল্যান্সিং এবং ব্লগিং সম্পর্কে ধারনা পরিষ্কার। তবে একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাচ্ছি, আমি ফ্রিল্যান্সিং এবং ব্লগিং কে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাড় করাচ্ছিনা। মাইন্ড ইট। আমি আমার নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু পেশাগত স্বাধীনতার ভিত্তিতে কিছুটা আলোচনা করছি। আমার ব্যক্তিগত মতে, আয় সমান বা কিছুটা তারতম্য হলেও ব্লগিং এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্যে ব্লগিং কেই আমি স্বাধীন পেশা হিসেবে দেখি। ফ্রিল্যান্সিং করেও আপনি হাজার হাজার ডলার আয় করতে পারেন। আবার ব্লগিং করেও হাজার হাজার ডলার ইনকাম করতে পারেন। কিন্তু পেশাগত স্বাধীনতার কথা চিন্তা করলে কোনটি অগ্রাধিকার পাবে? আপনার মতে কি? আপনি ওডেস্ক বা ফ্রিল্যান্সার ডট কম মার্কেটপ্লেসগুলোতে যে কাজগুলো পান সেগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারবেন, ফ্রিল্যান্সিংটাও অনেকাংশে চাকুরীর মতোই। এখানে আয়ের কথা তুলছিনা। আমি বারবার বলছি পেশাগত স্বাধীনতার কথা। আপনি যখন একটা প্রজেক্ট নেন তখন ওই প্রজেক্ট চলাকালীন সময়ে ক্লায়েন্ট হলো আপনার বস। আর তাঁর সময়মতো তাঁর সাথে চ্যাটিং করা, কথা শুনা এবং আরও অনেক কিছু করতে হয় চাকুরীর মতোই। ধরুন আপনি সন্ধ্যায় বেড়াতে যাবেন পরিবারসহ। কিন্তু আপনার হাতে এখন ৫০০ ডলারের একটা প্রজেক্ট রয়েছে। সন্ধ্যায় আপনার সাথে ক্লায়েন্টের চ্যাটিং করতে হবে স্কাইপে। কাজ কর্মের অগ্রগতি দেখাতে হবে। আপনি কি শান্তিমতো এই অবস্থায় যেতে পারবেন বেড়াতে? অন্যদিকে ব্লগিং এর কথায় আসি। আপনার ব্লগটি প্রতিষ্ঠিত, হাজার হাজার দৈনিক ভিজিটরস আসে। 

সপ্তাহে সর্বনিম্ন দু থেকে চারটা আর্টিকেল লিখলেও চলে। বেশী লিখলে তো কথাই নেই। ব্লগে ভিজিটর আসছে যাচ্ছে, পড়ছে, অ্যাডে ক্লিক করছে, অ্যাকাউন্টে ডলার জমা হচ্ছে। সবই হচ্ছে অটোমেটিক। আপনি দিব্যি ঘুরছেন, ফিরছেন, খাচ্ছেন, ঘুমাচ্ছেন। পেশাগত টানে যখন সময় পাচ্ছেন তখন আর্টিকেল লেখা, ব্লগের আনুশাঙ্গিক কাজকর্ম, এসইও ইত্যাদি কাজ করছেন। আসলেই যে ব্লগিং করে অ্যাডসেন্স বা অন্য উপায়ে হাজার হাজার ডলার মাসে আয় সম্ভব সেটা আপনি দয়া করে গুগল সার্চ করে সফলদের জীবনী পড়ে নিবেন। আর এসব বিবেচনায় কেন জানি আমার মতে ফ্রিল্যান্সিং বনাম ব্লগিং বিবেচনায় পেশাগত স্বাধীনতার দিক থেকে ব্লগিং টাই এগিয়ে। দুটোই স্বাধীন পেশা। কিন্তু ব্লগিং কে ফ্রিল্যান্সিং অপেক্ষা বেশী স্বাধীন পেশা মনে হয় আমার। ফ্রিল্যান্সিং -এও কিন্তু ব্লগিং ক্যাটাগরি আছে। কিন্ত সেখানেও কিন্তু চাকুরীর মতো। আবার ওই ব্লগিং টাকেই যখন নিজে নিজে করবেন, নিজের ব্লগের জন্য লিখবেন। তখন আপনিই বস। আপনাকে কি ব্লগিং পেশায় কারো কাছে জবাবদিহী করতে হয়? মনে হয় না। 

কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং -এ কিছুটা হলেও করতে হয় ক্লায়েন্টের কাছে। তবে আমার এই বিচার বিশ্লেষণে অবশ্য কিছুটা শর্ত প্রযোজ্য বা কিছু অনুমিত শর্ত আছে। যেমনঃ ব্লগিং ক্ষেত্রে আমি যে উদাহরনটা দিলাম, সেরকম অবস্থাটা প্রতিষ্ঠিত ব্লগারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এজন্য প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পিছনে অনেক শ্রম দিতে হয়। তবে যাই বলেন সেখানেও স্বাধীনতা রয়েছে। ফ্রিল্যান্সিংই বলুন আর ব্লগিং এর কথাই বলুন, দুটোর আয়ের কথা বিবেচনা করলে দুটোর আয় কিন্তু প্রায়ই সমান। তবে সমান আয়ের জন্য অবশ্যই যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে। সেটা প্রযোজ্য ব্লগিং এবং ফ্রিল্যান্সিং উভয় ক্ষেত্রেই। হাজার হাজার ডলার ব্লগিং থেকে আয় কিন্তু শুধুমাত্র ইংরেজী মানসম্মত ব্লগ থেকেই সম্ভব। বাংলা ব্লগিং জগত সীমিত তাই এটার আয়ের জগতটাও সীমিত।

পেশা হিসেবে ব্লগিং

ব্লগিং এবং ফ্রিল্যান্সিং দুটোই সমান পেশা। মাথায় আসল তাই পেশাগত স্বাধীনতার দিকটা একটু আলোচনা করলাম আর কি! তবে মতামতগুলো সম্পূর্ণ নিজের। তাই কেউ অন্যভাবে নিবেন না।

বুধবার, ১৩ মে, ২০১৫

কিভাবে পিসিতে Internet.org এর মাধ্যমে ইন্টারনেট চালাবেন তা দেখে নিন।



আমরা সবাই জানি গতকাল 10/05/2015 থেকে বাংলাদেশে Internet.org অফিসিয়ালি ব্যাবহার করা যাচ্ছে।

আজ আপনাদের দেখাব কিভাবে পিসিতে Internet.org ব্যাবহার করবেন।

ভিডিওটির লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=dNtlZCIvTkQ

ভিডিওটির Description এ সফটওয়্যার এর Download লিঙ্ক দেয়া আছে।

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

ঘরোয়া চাকুরি/ ব্যবসা হিসেবে ফরেন-এক্সচেঞ্জ (ফরেক্স)



স্বাধীন যেকোন পেশা যে কারো জন্য উন্মক্ত। তবে বিশেষভাবে অনেকে ঘরোয়া পেশাগুলো কে অধিক মুল্য্যয়ন করে থাকেন যার যার সুবিধা, বিবেচনায় এবং ইচ্ছায়। এই ধরনের পেশা সারা পৃথিবীতে অনেক আছে, বিশেষ করে ফ্রী-ল্যান্সিং এর দুয়ার খুলে দিয়েছে অনেকখানি। ঘরে বসে বাইরের প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করা বিষয়টি সত্যি অনেক মজার। আর এই মজাটা আমাদের দেশের তরুন প্রজন্ম খুব ভালো ভাবেই নিচ্ছেন। এবং সফলতার সাথেই নিচ্ছেন।

প্রযুক্তির আশীর্বাদে মানুষ এর জীবন এখন অনেক সহজ, অনেক গতিসম্পূর্ণ এবং অনেক সুন্দর। মানুষের অনেক কল্পনা এখন বাস্তবে রুপ নিচ্ছে প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রযুক্তির এইরকম একটি আশীর্বাদ হল ঘরে বসে অনলাইনে আয়।  ঘরোয়া অনেক পেশার মধো আজ আমি আলোচনা করব, ফরেন এক্সচেঞ্জ (ফরেক্স) ট্রেডিং বিষয়ে। মুলত আমার আরেকটি আলোচনায় আমি এই পেশা সম্পর্কে বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়েছিলাম। যারা আগের আলোচনাটা মিস করেছিলেন তারা চাইলে পড়ে নিতে পারেন। (ফরেক্স কি, কেন শিখবো, কতদিন লাগবে? কত টাকা আয়? কত ইনভেস্ট করতে হয়? প্রফেশন হিসেবে কেমন ? বিস্তারত)।

প্রথমেই বলতে চাই বর্তমান সময়ের সিডিউল বেসড বাইরের অনেক পেশার চেয়ে ঘরে বসে ফরেক্স ট্রেডিং এর মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারেন তার অনেক অনেক বেশি। হ্যাঁ , সত্যিই তাই। হতভাগ করার মত কিছু বলছি না। ফরেক্স ট্রেডিং ট্রেডিশনাল শেয়ার মার্কেট এর মত এক ধরনের মার্কেট যেখানে মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রফিট করে থাকেন। এই পেশাটি উম্মক্ত। আপনি বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে শুধুমাত্র নেট কানেকশন এবং ল্যাপটপ পিসি ব্যাবহার করে আপনার ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন, ওপেন একটি ব্যবসা তাই আপনি কারো কাছে বাঁধা নন কিংবা কেউ আপনার কাছে। আপনি সম্পূর্ণ প্রসেসটা করতে পারেন নিজে নিজেই।

ট্রেডিশনাল একটি ব্যবসা আপনি যদি ক্ষুদ্র মূলধন ২০ লাখ দিয়ে শুরু করেন সেট আপ থেকে শুরু করে যে প্রকার ব্যবসা করেননা কেন প্রতি মাসে আপনি সব খরচ বাদ কত প্রফিট আসা করতে পারেন? এভারেজ ৩০০০০-৫০০০০ সর্বচ্চ, কোন কোন ক্ষেত্রে সেটাও সম্ভব হয় না। সিম্পলভাবে আমি যদি এই ইনভেস্টমেন্টকে ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড এর অনুপাতে হিসাব করি তাহলে শারীরিক অস্তিত্বহীন সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই ব্যবসা থেকে আপনি মাসিক ২-৩ লাখ টাকা প্রফিট নিতে পারেন অনাসয়ে। এই হিসাবটা আমার একটা অন-ইন এভারেজ, আপনি দক্ষতার বদৈলতে প্রফিট করে নিতে পারেন তার ও অনেক বেশি আনলিমিটেড মানি। যার জন্য আপনার প্রয়োজন নেই কোন বিশেষ ব্যবসা পজিশনের। নেই কোন স্টাপ কিংবা ব্যবসায়িক ইউটিলিটিজের। আপনার পিসি এবং ইন্টারনেট কানেকশনই হচ্ছে আপনার ব্যবসার মুল সেট আপ। তাই ঘরে বসে এই ব্যবসাটি আপনার ভাগ্যর পরিবর্তন আনতে পারে অনেক সহজে এবং অনেক কম সময়ে।

কিভাবে আপনি ঘরে বসেও এই ব্যবসাটা করতে পারেনঃ 
উপরের যে সুবিধার কথা গুলো বললাম তার সবকটি আপনি পেতে পারেন কোন রকম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়ায় সম্পূর্ণ ঘরে বসে। প্রতিটি ব্যবসার মুল হল আগে সেই ব্যবসাটা সম্পূর্ণ আয়ত্তে আনা, ভালোভাবে শিখে নেওয়া। তাই মুল ইনভেস্টমেন্টে যাওয়ার আগে অবশ্যই ,অবশ্যই, অবশ্যই সম্পূর্ণ বিষয়টি পরিষ্কার এবং দক্ষ হয়ে তারপর শুরু করুন।

এইবার আসুন জেনে নেই এই ব্যবসাটিতে কি ধরনের সীমাবদ্ধতা আপনার থাকবে কিংবা কোন ধরনের ঝুঁকি আপনার থাকতে পারে। নিমক্ত বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন থাকুন ব্যবসাটি আরম্ভ করার পূর্বে।

এই রকম ভিবিন্ন ব্যতিক্রম ধর্মী সুবিধার জন্য সারা বিশ্বে ঘরোয়া পেশা হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ফরেক্স ট্রেডিং, বিশেষ করে মহিলারা যারা বাইরে বেরিয়ে চাকুরি কিংবা ব্যবসায় নিজেদের অন্তুভুক্ত করতে চায় না সম্ভব হয় না, ঘরে বসে আয় করার জন্য ফরেক্স হতে পারে তাদের প্রথম পছন্দ। এবং আপনি হতে পারেন আপনার পরিবারের একজন বড় আর্নার, পরিবর্তন করতে পারেন নিজের ভাগ্যকে, স্বাবলম্বী হতে পারেন আর্থিকভাবে।

আপনার সামনের অনেক অনেক পেশায় আপনার জীবনকে সুন্দর এবং পরিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে ফরেক্স ট্রেডিং ও হতে পারে আপনার একটি সফল পেশা সফল পছন্দ।

“আত্মবিশ্বাস” টাই সফল ফ্রিলান্সার হওয়ার প্রধান হাতিয়ার


“সবাই নাকি এখন কম্পিউটার ব্যবহার করে ঘরে বসেই খুব সহজে হাজার হাজার ডলার আয় করছে!” হয়ত কথাটি আপনি প্রায়ই শুনে আসছেন। এবং আশ্চর্যও হচ্ছেন। কারণ আপনি এই লাইনে একদম নতুন। কারণ সেই বাপ-দাদাদের আমল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা শুনে আসছি লেখাপড়া শেষ করে চাকুরি বা ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবন চালাতে হয় আর হঠাৎ করে এগুলো কি!!! মানুষ মাত্রই কৌতুহুল প্রিয়। তাই আপনি অনেক জাচাই-বাছাই করে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, হাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেলেন। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন আপনিও এরকম ডলার আয় করবেন। কিন্তু কিভাবে? সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না। যাহ্‌ হতাশ হলেন! (টিউনটির শিরনামটা মনের মধ্যে গেঁথে আমার লেখা গুলো কস্ট করে পড়ুন। প্রাথমিক ধারণা পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।)

সত্যি কথা বলতে আপনি যা শুনেছেন তা পরিপূরণভাবে ঠিক শোনেন নি। কারণ যারা হাজার হাজার ডলার আয় করে ওই সব মানুষ গুলোকে খুব কষ্ট করেই কাজ করতে হয়। সাধারণত আমারা যেমন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাকা ইনকামের জন্য ছুটাছুটি করি ঠিক অনুরূপ এখানেও কাজ করতে হয়। তবে তুলনামুলকভাবে অনেক সুবিধা আপনি পাবেন। যেমন আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট কাজে ভাল পারদর্শী হতে পারেন তাহলে এখানে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। এবার মনে মনে ভাবছেন যে সবই তো বুঝলাম কিন্তু কাজে পারদর্শী হব কিভাবে? (বলছি। সাথেই থাকুন।)

আমি আগেই বলেছি অনলাইনে কাজ করতে বা একজন সফল ফ্রিলান্সার হতে “আত্মবিশ্বাস” টাই প্রধান হাতিয়ার। এছাড়া আপনার থাকতে হবে একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ। আর থাকতে হবে কাজ করার ইচ্ছা ও কিছুটা সময়। ভাবছেন আপনি খুব ব্যস্ত মানুষ তাই পড়াশুনা/ চাকুরী/ ব্যবসা করেন। মনে রাখবেন দিনে কমপক্ষে ১/২ ঘণ্টা কাজ করেও আয় করা যায়।
ইন্টারনেট ব্যবহা করে আয় করার পদ্ধতি আছে তাই এতটুকু নিশ্চিত থাকেন এতে কোন ফাকিবাজি নেই। কারণ অগণিত মানুষ আজ এসব করে ইনকাম করছেন, সারা বিশ্ব তো বটেই, বাংলাদেশও। তাই আপনার ওপরই নির্ভর করছে আপনি কিভাবে শুরু করবেন এবং কবে থেকে করবেন। অনলাইনে অনেক কাজ পাওয়া যায়। যেমনঃ ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আর্টিকেল রাইটিং, ফটোগ্রাফি, ফাইল আপলোড, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি, গুগল এডসেন্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ই-মেইল মার্কেটিং। (আরও অনেক ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আপনারা কস্ট করে গুগল সার্চ দিয়ে জানতে পারবেন।) এদের মধ্যে আপনার পছন্দের কাজটি বেছে নিন। এবং আপনাকে কিছুদিন সময় দিয়ে কাজ শিখতে হবে। কিভাবে কাজ শিখবে সেটাও বলি। আপনি কোন আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা দিয়ে কাজ শিখতে পারেন। যদি সেরকম কোন সুবিধা না থাকে তবে নিজেকে করে ফেলুন প্রচুর আত্মবিশ্বাসী। ইন্টারনেট হতে পারে আপনার একমাত্র শিক্ষক। অনলাইনে সব ধরনের কাজের ওপর অনেক টিউটোরিয়াল সাইট আছে যেখান থেকে আপনি অনায়াসেই কাজ শিখতে পারবেন। তাছাড়া অনলাইনে কাজ করে এমন কিছু মানুষের সাথে যোগাযোগ করুন। জানা-অজানা অনেক দিক নির্দেশনা পাবেন বলে আশা করি। আমি নিজেও এভাবেই কাজ শিখছি। আপনি যদি একেবারে নতুন হন তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন।

ভাবছেন কতদিন লাগবে কাজ শিখতে এবং কত দিনে আয় করা যায়? আসলে আমি আগেই বলেছি আপনাকে আপনার লক্ষ্য স্থির করতে হবে। কি কাজ আপনার ভাল লাগে সেইটা শেখার চেষ্টা করুন। আপনি যেমন সময় এখানে ব্যয় করবেন তেমন শিখতে পারবেন। ধরুন উধাহরন স্বরূপঃ আপনি ওয়েব ডিজাইন শিখবেন। তো নিজের একান্ত প্রচেস্তায় এইটা শিখতে সময় লাগবে ৩/৪ মাস। যদি আপনি প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ ঘণ্টা করে সময় দেন (একান্তই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বললাম)। এখন আপনিই হিসেব করে দেখুন আপনি কতটা সময় এখানে দিতে পারবেন আর কতদিন লাগতে পারে কাজটি শিখতে। আপনার প্রাথমিক দক্ষতা এবং আগ্রহ অনুযায়ী নির্বাচন করুন কোন কাজ টা আপনার সাথে যায়? তারপর ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করুন।

মনে রাখবেন কোন কাজ-ই সোজা না। আমার নিজের দেখা অনেকি আছে যারা কোন কাজ শেখা শুরু করে ২/৪ দিন প্র্যাকটিস আগ্রহ সহকারেই। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তারা ভাবে এই কাজ টি মনে হয় একটু বেশিই কঠিন ও ঝামেলার। তাই তারা আরেকটি কাজ শেখার জন্য সহজ কাজ শিখতে যায়। কিন্তু কোন কাজই সহজ না। আপনি হয়ত দুয়েকদিন পরে আবার কঠিন মনে করে ধৈর্যহারা হবেন। এতে আপনার মূল্যবান সময়টাই হারাবেন। আপনি যেইটা দিয়ে জীবনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চান সেই কাজটা আগ্রহ সহকারে শিখুন। অনেক অনেক আত্মবিশ্বাসী হউন। একবার ভাবুন সবাই পারলে আপনি পারবেন না কেন? কম্পিটিশনের যুগে সবাই যে যেদিক দিয়ে পারছে এগিয়ে যেতে মরিয়া। এই যুগে আপনি থেমে থাকলেন তো পিছিয়ে পরলেন। তাই প্রতিটা দিনকে মনে করুন আপনার চ্যালেঞ্জ। একটা দিন থেমে থাকা মানে আপনার জায়গাটি দখল করে নিল অন্যকেও। ঠিক যেমন ছেলেবেলায় আমরা যেভাবে স্কুলে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম আমার জন্য দোয়া করবেন। আউটসোরসিং এ এখনও চেষ্টা করছি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে আত্মবিশ্বাসীরা সফলতা পাবেই।
আপনারাও অনেক ভাল থাকবেন ইনশাল্লাহ। এগিয়ে যাবেন এবং ফ্রিলান্স করবেন হবেন পৃথিবীর অন্যতম সেরা ফ্রিলান্সার।


Copyright © 2014 Bagerhat IT Institute